ষড়ায়তন মানে কি।

চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা, কায়, মন নিয়ে ষড়ায়তন। এই ষড়ায়তন উপমা দেশনা করেছেন ভদন্ত পঞ্ঞাদীপ থের মহোদয়।  

ষড়ায়তন উপমা দেশনা করেছেন ভদন্ত পঞ্ঞাদীপ থের মহোদয়।  বৌদ্ধধর্মীয় বিষয়।
চক্ষু- সাপের মত। 
রূপালম্বন- টিলার স্তূপের মত। 
যা অন্যের দোষ খুঁজে থাকে। সাপ টিলার ভেতরে আঁকবাঁকা গর্তে থাকতে পছন্দ করে। 

চোখ বিভিন্ন রংঢং দৃশ্য দেখতে পছন্দ করে। অগোচর জিনিস দেখতে পছন্দ করে। সাপের তুল্য চোখ, টিলার মত আলম্বনে (বিষয়ে) বিচরণ করে থাকে।


কর্ণ- কুমিরের মত। 

শব্দালম্বন- জলের মত।

কুমির বেশির ভাগ স্থলের চেয়ে জলের মধ্যে লুকিয়ে ঘুমিয়ে আরাম করে থাকতে পছন্দ করে। 

গোপন করা য়ায় এমন স্থানে থাকতে পছন্দ করে। জল তরঙ্গের শব্দ শ্রবন সুবিধাজনক স্থানে থাকতে পছন্দ করে।


নাসিকা- পাখির মত। 

গন্ধালম্বন- খোলা আকাশের মত। 

পাখি খোলা আকাশে ভেসে মুক্ত মনে উড়তে পছন্দ করে। গন্ধ বাতাসের মত এবং বায়ুস্রোতে বহে। 

বাতাসের মত পাখি খাচায় থাকতে পছন্দ করে না। গন্ধময় খোলা আকাশে উড়তে পছন্দ করে।


জিহ্বা- কুকুরের মত। 

রসালম্বন- গ্রামের মত।

কুকুর খাদ্য খুঁজতে বেরিয়ে পরে, খাদ্যের গন্ধ পেলে লাফালাফি করে। হাড় পেলে লালা ঝড়া কামড় দেয় এবং লালা ফেলে আস্বাদ করতে পছন্দ করে।

কুকুর জাত যেখানে আহার সুবিধা হয় সেই গ্রামের মধ্যে থাকতে পছন্দ করে। ঠিক জিহ্বাও আহার সন্ধানের থাকার পছন্দ করে।


কায়- জঙ্গল কুকুরের মত। 

স্পর্শালম্বন- শ্মশান ঝোপের মত। 

জঙ্গল কুকুর গ্রামে থাকে না। শ্মশান ঝোপঝাড় স্থানে থাকতে পছন্দ করে। 

জঙ্গল কুকুরের মত এই কায় অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গুলোও শ্মশান ঝোপঝাড়ে মৃত দেহের মত আলস্যের পরে থাকতে পছন্দ করে।


চিত্ত- বানরের মত। 

জঙ্গল- সমস্ত আলম্বনের মত (উক্ত থেকে অবশিষ্ট)। 

বানর শান্ত থাকে না। এই গাছ সেই গাছ হরেক রকম গাছের ডালে লাফালাফি করতে পছন্দ করে। বানরের মত চিত্তও ধর্মালম্বনে ডুবে থাকতে এবং কল্পনা করতে পছন্দ করে। 


সংসারকে দীর্ঘ করে বলে আয়তন। ৬টি আয়তন তাই ষড়ায়তন হয়েছে। 


সবার হিত সুখ মঙ্গল হোক।


পূজনীয় ভান্তের কিছু লৌকিক উপদেশঃ


  • পরিষদের মাঝে নিজেকে প্রশংসা না করা।
  • সঠিক ঘটনাকে না জেনে দোষারোপ না করা।
  • কৃতজ্ঞতা কথা দীর্ঘ টেনে না বলা।
  • অজানা বিষয়কে জিজ্ঞেস করতে দেরি না করা।
  • দ্বার সংযত ও সত্যকে উপলব্ধি করতে ভুলে না যাওয়া।
  • গুরুত্বপূর্ণ কাজ দু'টিকে একসাথে না করা।
  • হিসাব না করে টাকাপয়সা জমা না নেওয়া।
  • নিজেকে সময় দিতে ভুলে না যাওয়া।
  • লোকধর্মকে নকড়াছকড়া না করা।
  • নিজেকে শান্তিতে থাকতে অভ্যাস করা।


সাধু, সাধু, সাধু।


লেখক-
স্বধর্ম দেশক, বিদর্শন আচার্য
ভদন্ত পঞ্ঞাদীপ থের মহোদয়।
রাঙ্গামাটি।


Comments

Popular posts from this blog

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ কি জেনে রাখুন।

মহামঙ্গল সূত্র পালি থেকে বাংলা-২০২১।

নাগরিক পরিচিতি ফরম কেন প্রয়োজন।